মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন ও সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর আওতায় অবিলম্বে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী নাগরিক অধিকার সংগঠন National Association for the Advancement of Colored People। ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এত কঠোর ও সরাসরি অবস্থান নিল সংগঠনটি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বক্তব্য ও আচরণ ঘিরে ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক চরমে পৌঁছালে এনএএসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ দাবি তোলে।
সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট Derrick Johnson এক বিবৃতিতে বলেন, “এই প্রেসিডেন্ট অযোগ্য, অসুস্থ ও উন্মাদ।” তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের বক্তব্য ও আচরণ শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভঙ্গ করছে না, বরং তা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য হুমকিস্বরূপ। তার ভাষায়, “যখন দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তি সত্য, স্থিতিশীলতা ও জনগণের কল্যাণকে অবজ্ঞা করেন, তখন তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
ডেরিক জনসন আরও বলেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হলো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সাংবিধানিক শপথ রক্ষা করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাই অবিলম্বে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা যদি মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তাহলে তারা কংগ্রেসকে অবহিত করে অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন প্রস্তাব গৃহীত হলে এবং সিনেটে তা অনুমোদিত হলে প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত করা সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক নাগরিক অধিকার সংগঠনের এমন অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কতদূর এগোবে, তা নির্ভর করছে কংগ্রেস ও প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণের ওপর।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন