মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান ফের বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা IQAir–এর লাইভ সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৬টি প্রধান শহরের মধ্যে বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এদিন শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৩৪, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ভাষায় ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ সময় ধরে এমন দূষিত বাতাসে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ করলে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সংক্রমণ, হৃদরোগসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আইকিউএয়ারের তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকার পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের Lahore, যার স্কোর ২৩২। তৃতীয় স্থানে ভারতের রাজধানী New Delhi, যার স্কোর ১৯৪। দূষিত শহরের তালিকায় পরবর্তী অবস্থানগুলোতে রয়েছে Beijing, Kolkata এবং Kathmandu। দক্ষিণ এশিয়ার বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণের এই উচ্চমাত্রা আঞ্চলিক পরিবেশগত সংকটের গভীরতাই তুলে ধরছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে তালিকার নিরাপদ প্রান্তে ছিল ইন্দোনেশিয়ার Batam—যার একিউআই স্কোর ছিল শূন্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের Salt Lake City ও San Francisco এবং অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী Canberra–তেও বায়ুমান ছিল তুলনামূলকভাবে ভালো। উন্নত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, কঠোর নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতন নাগরিক উদ্যোগ এসব শহরকে পরিচ্ছন্ন বাতাস ধরে রাখতে সহায়তা করছে বলে মত পরিবেশবিদদের।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বায়ুর মান ০ থেকে ৫০ হলে তা ভালো, ৫১–১০০ মাঝারি, ১০১–১৫০ সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১–২০০ অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১–৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঢাকার বর্তমান ২৩৪ স্কোর সরাসরি ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ স্তরে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণকাজের ধুলা, ইটভাটা, শিল্পকারখানার ধোঁয়া এবং পুরনো যানবাহনের নির্গমন ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ। কার্যকর মনিটরিং, নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, পুরনো ও দূষণকারী যানবাহন অপসারণ, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং সবুজায়ন বৃদ্ধি ছাড়া এ সংকট কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।
বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বায়ুদূষণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান—যা আধুনিক বিশ্বের অন্যতম নীরব ঘাতক হিসেবে বিবেচিত। তাই রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।