মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর Beersheba-এর গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল Neot Hovav-এ ইরানের ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৯ মার্চ) ভোররাতে সংঘটিত এ হামলায় একটি রাসায়নিক কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শিল্পাঞ্চলের একাধিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত অন্তত একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তবে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়।

প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শিল্পাঞ্চলজুড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। আগুনের তীব্রতা ও রাসায়নিক কারখানার ক্ষয়ক্ষতির কারণে পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের জানালা-দরজা বন্ধ রেখে ঘরের ভিতরে অবস্থান করতে এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

নিওত হোভাব শিল্পাঞ্চলটি বিরশেবা শহর থেকে মাত্র চার মাইল দূরে অবস্থিত। এ অঞ্চলটি ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিভিন্ন রাসায়নিক ও ভারী শিল্পকারখানা রয়েছে। ফলে হামলার প্রভাব শুধু অবকাঠামোগত নয়, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

এদিকে একই দিনে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah-এর রকেট হামলা একযোগে শুরু হওয়ায় ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা Iron Dome চাপে পড়ে। বহু এলাকায় বাসিন্দারা বাংকারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

উত্তরাঞ্চলীয় শহর Haifa-র উপকূলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

অন্যদিকে, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Arabi Television-এর তেহরান কার্যালয়ে ইসরায়েলি হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।

প্রায় ৩০ দিন ধরে চলমান এ সংঘাতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে বহু শিশু রয়েছে। আহতের সংখ্যাও কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। একাধিক স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সবমিলিয়ে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও হিজবুল্লাহর রকেট হামলা ইসরায়েলের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও নাগরিক এলাকাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা ক্রমেই বিস্তৃত আকার ধারণ করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।