মোঃ শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মিনুয়ারা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্বামীর ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর লাশ ঘিরে স্বামীর বাড়ি ও বাবার বাড়ির লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। মৃত্যুর প্রায় ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দাফন সম্পন্ন না হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বামীর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহত মিনুয়ারা বেগম একই উপজেলার কালিকাপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে এবং স্থানীয় হোসেন মিয়ার স্ত্রী। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হোসেন মিয়ার বসতঘর থেকে মিনুয়ারা বেগমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এসআই রাকিবুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
তবে মরদেহ উদ্ধারের আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিহতের বাবার বাড়ির লোকজন মরদেহ দেখতে গেলে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে স্থানীয় ইউপি মহিলা সদস্য নাজমা আক্তারসহ অন্তত ৮ জন আহত হন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবু জাহের শিমুল বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার দাবি, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে তার বোনকে হত্যা করে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দ্রুত মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অন্যদিকে নিহতের স্বামী হোসেন মিয়া ও ছেলে রিপন মিয়া দাবি করেন, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে নাস্তা শেষে হোসেন মিয়া জমিতে কাজ করতে যান। পরে ঘরে ফিরে দরজা-জানালা বন্ধ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে জানালা দিয়ে তাকিয়ে মিনুয়ারাকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। এর পেছনের কারণ সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
স্বামীর পরিবারের অভিযোগ, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে আনার পরও প্রতিপক্ষের বাধার কারণে দাফন সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মরদেহ একটি ফ্রিজিং গাড়িতে সংরক্ষিত ছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমা আক্তার বলেন, “উভয় পক্ষের সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে আমি আঘাতপ্রাপ্ত হই।”
বুড়িচং থানার ওসি লুৎফুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।