মোঃ শাহজাহান বাশার

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর হাসপাতালটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদুল আজহার নামাজ শেষে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকের এই খুশির দিনে একটি বেদনাদায়ক সংবাদ এসেছে। বুধবার আদ-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। একটি মায়ের অনুরোধে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের এসি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে সম্ভবত গ্যাস লিকেজের কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার পরপরই তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত কমিটিকে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শিশু ওয়ার্ডের পরিবেশ, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য গ্যাস লিকেজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা কিংবা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হাসপাতাল এলাকায় বুধবার থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর রাজধানীর রমনা থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের চলমান হামের টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতির বিষয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, সরকারের কার্যকর উদ্যোগের কারণে দেশে হামের প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, “হামকে যদি আমরা ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে না আসতাম, তাহলে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারত। আমরা ইতোমধ্যে দুই কোটিরও বেশি শিশুকে টিকার আওতায় এনেছি। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা মজুত রয়েছে এবং টিকাদান কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের রুটিন টিকাদান কার্যক্রম আবারও পুরোদমে শুরু হয়েছে। দেশের প্রত্যেকটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার জন্য সরকার কাজ করছে। ফলে শিশুমৃত্যুর হারও কমে এসেছে।”

উল্লেখ্য, বুধবার ভোরে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।