মো. শাহজাহান বাশার
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রত্যার্পণ চুক্তির আওতায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ১২ জুন ইন্টারপোল বাংলাদেশ পুলিশকে বেনজীর আহমেদের অবস্থান ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে অবহিত করে। এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করে।
দুদকের চলমান তদন্তে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে তার দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ৩০তম মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগগুলো নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এরপর থেকে তার অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি গ্রেপ্তারের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়ে থাকে এবং প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, কোনো দেশের সাবেক পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আন্তঃরাষ্ট্রীয় আইনগত সহযোগিতার মাধ্যমে গ্রেপ্তার একটি বিরল ঘটনা। সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে উভয় দেশের আইনি কাঠামো, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি এবং আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ, ইন্টারপোল এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তথ্যের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।