মো. শাহজাহান বাশার
কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার ও যুবদলের নামধারী কর্মী আকিবুর রহমান আকিবসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত জামাল হোসেন (৪৮) বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় আহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা অভিযুক্তরা হলেন— আকিবুর রহমান আকিব, রঞ্জু, মো. জানে আলম জনি, রুবেল, জুহেব, সানি, সুমন ওরফে পিচ্চি সুমন, অপু, সুমন, মো. বাসেল, মো. এনামুল হক দীপু ওরফে ডাইল দীপু, মো. রাকিব ও রেনু মিয়া।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে জামাল হোসেন নগরীর রেইসকোর্স এলাকার ধানমন্ডি ৬ নম্বর এলাকায় প্রায় ৮ দশমিক ৭৫ শতক জমি বায়নামূলে ক্রয় করেন। পরে ওই জমির প্রবেশপথে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বাদীর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা জমির মালিকানার বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বরং তারা দাবি করেন, জমিটি অন্য কারও কাছে বিক্রি করতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। চাঁদা না দিলে জামাল হোসেনকে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাছলিমা আক্তার অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তার স্বামী জমিটি বিক্রির পর ক্রেতাদের দখল বুঝিয়ে দিতে গেলে অভিযুক্তরা পুনরায় বাধা দেয়। এ সময় তারা দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও একটি পিস্তল প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় সেদিন তিনি সেখান থেকে চলে আসেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে রেইসকোর্স এলাকার এস কে স্পোর্টসের সামনে থেকে জামাল হোসেনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে বায়তুল আমান ও তোফায়েল হোসেনের বাসার সামনের একটি খালি স্থানে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার নেতৃত্বে থাকা আকিবুর রহমান আকিব ধারালো দা দিয়ে জামাল হোসেনের মাথায় কোপ দেন। পরে তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে একটি গুলি ছোড়েন। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এ সময় স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বলেন, "অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দখলবাজির অভিযোগ রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধভাবে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছে। আমার স্বামীর ওপর হামলাও পরিকল্পিতভাবে জমি দখলের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আকিবুর রহমান আকিব বলেন, "আমি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"
এ বিষয়ে কুমিল্লা মহানগর ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক শিল্পী বলেন, "আকিব যুবদলের কেউ নয়। সে যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলের অনুসারী হওয়ার চেষ্টা করে। এলাকায় তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে।"
কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, "আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে, ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগে উল্লিখিত ১৩ জনের দ্রুত গ্রেপ্তার, হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন