মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি খাতে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে রাজধানীর বহু পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে পড়েছে। আর যেসব পাম্প সীমিত পরিসরে খোলা থাকছে, সেগুলোর সামনে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ যানবাহনের সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না নিশ্চিত সেবা—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় অবস্থিত একটি সেনা-পরিচালিত ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই তেল নেওয়ার জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। অনেকেই ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
পাম্পে উপস্থিত একাধিক মোটরসাইকেল চালক জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হলেও হঠাৎ করেই ‘তেল শেষ’ ঘোষণা দিয়ে পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে অপেক্ষমাণ চালকদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়।
একজন মোটরসাইকেল চালক বলেন,
“ভোর ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। অফিস আছে, কাজ আছে। কিন্তু তেল না পেলে তো চলাচলই সম্ভব না। এখন বলছে বিকেল ৩টার পর আবার তেল আসতে পারে। কিন্তু তখন আদৌ পাব কি না, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।”
এদিকে, বিকেল নাগাদ নতুন করে তেল সরবরাহ আসতে পারে বলে জানানো হলেও পাম্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। ফলে অনেকেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই লাইনে অবস্থান করছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাম্পে তালা ঝুলছে। কোথাও কোথাও সীমিত আকারে ডিজেল বা অকটেন সরবরাহ দেওয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে গণপরিবহন, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।
চালকদের দাবি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন?
কবে স্বাভাবিক হবে তেলের সরবরাহ?
ডিএনএন পর্যবেক্ষণ বলছে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও নাগরিক জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এখন নজর সবার সরকারের জরুরি পদক্ষেপের দিকে।
মন্তব্য করুন