মোঃ শাহজাহান বাশার
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রিতে অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি এক নারীকে নিয়ে একটি অনৈতিক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরিফ হাসনাত স্থানীয় জনতার হাতে অবরুদ্ধ হন। পরে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি কক্সবাজারে বিআইডব্লিউটিএর মূল্যবান সরকারি সম্পত্তি বিক্রি সংক্রান্ত। অভিযোগ অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর উপজেলার এন্ডারসন রোড এলাকায় অবস্থিত প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি মাত্র ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা মূল্যে 'টোকিও মিল জেভি' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই লেনদেনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আরিফ হাসনাতকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন আরিফ হাসনাত। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পান এবং বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। ওই সময় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে আরিফ হাসনাতের প্রশাসনিক ও আর্থিক নথিপত্র, ব্যাংক হিসাব, সরকারি রাজস্ব আদায়ের তথ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল তলব করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে বিশেষভাবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর ও ঢাকা সদরঘাটে দায়িত্ব পালনকালে তার আর্থিক কর্মকাণ্ড, সরকারি রাজস্ব আদায় এবং ব্যাংক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর আগে তিনি ঢাকা সদরঘাট নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরিফ হাসনাতের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।