আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং ইরানের আকাশপথ আংশিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ার পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার কঠোর পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২১ এপ্রিল থেকে ইরানের আকাশসীমা আংশিকভাবে পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহার করে দেশটি ছাড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ফ্লাইট সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্যের জন্য বিমান সংস্থা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।
যেসব মার্কিন নাগরিক সরাসরি আকাশপথে ইরান ছাড়তে সক্ষম নন, তাদের জন্য বিকল্প পথ হিসেবে স্থল সীমান্ত ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আর্মেনিয়া, তুরস্ক এবং তুর্কমেনিস্তান সীমান্ত দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো প্রতিবেশী দেশে প্রবেশ বা ওই অঞ্চল দিয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, “মার্কিন নাগরিকদের আফগানিস্তান, ইরাক কিংবা পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত এলাকায় ভ্রমণ করা উচিত নয়। কারণ ইরানি কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে আমেরিকান নাগরিকদের দেশত্যাগে বাধা দিতে পারে অথবা তাদের ওপর অতিরিক্ত বহির্গমন শুল্ক আরোপ করতে পারে।”
দূতাবাস বিশেষভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকত্বকে স্বীকৃতি না দিয়ে তাদের ইরানি নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে। ফলে দ্বৈত নাগরিকরা মার্কিন পাসপোর্ট দেখিয়ে দেশ ত্যাগ করার চেষ্টা করলে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী সন্দেহের ভিত্তিতে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।
পরিস্থিতির ঝুঁকি আরও তুলে ধরে বলা হয়েছে, ইরানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকরা বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেফতার এবং দীর্ঘমেয়াদি আটক হওয়ার “উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির” মধ্যে রয়েছেন। এই কারণে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেসব নাগরিক ইরান ছাড়তে পারবেন না, তাদের জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস। বলা হয়েছে, “যদি আপনি ইরান ত্যাগ করতে না পারেন, তাহলে নিজ বাসস্থান বা নিরাপদ কোনো ভবনে আশ্রয় নিন এবং জানালা থেকে দূরে থাকুন।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সতর্কতা সাধারণত দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে জারি করা হয়। ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন