নিজস্ব প্রতিবেদকঃপশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ সমগ্র অঞ্চলে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে আকাশ ও নৌপথে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। জ্বালানি তেলের আমদানি, সরবরাহ ও পরিবহনে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় দেশের বাজারেও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চক্র জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনই এক অভিযানে রাজধানীর হাজারীবাগে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করেছে পুলিশ।
গত ১১ মার্চ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপি’র হাজারীবাগ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল হাজারীবাগ থানাধীন বেড়িবাঁধ এলাকায় অবস্থিত সমালোচিত প্রতিষ্ঠান “এজেআর কুরিয়ার সার্ভিস” অফিসে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে অবৈধভাবে মজুদ রাখা কোটি টাকা সমমূল্যের অকটেন, ডিজেল ও পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে তেল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি তেলবাহী গাড়ি এবং তেলের মিটার সংযুক্ত আরেকটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত তেলের পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি পরিকল্পিতভাবে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছে। তবে এবার জ্বালানি তেল মজুদের বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন,
“দেশের জ্বালানি তেলের চলমান সংকট নিরসনে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অথচ একটি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মচারীরা অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, জব্দকৃত তেল ও যানবাহন থানায় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে এ ঘটনার পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে এ ধরনের মজুদদারি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এটি জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড। তারা দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। যে কোনো অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি বা চোরাচালান রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হাজারীবাগ থানার এ অভিযানকে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।