শিরোনাম : মানবিক বিজিবি: টেকনাফে দুর্ঘটনাকবলিত বাসের যাত্রীদের উদ্ধার, আহতদের হাসপাতালে প্রেরণ প্রবর্তক মোডে দেশবিরোধী অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি পালন। ভাত ছাড়াই ১৩ বছর, সিংড়ার স্কুলছাত্র পারভেজের ব্যতিক্রমী জীবন ছাতকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের 'ফোর্স মবিলাইজেশন ড্রিল' প্রস্তুতির মহড়া নারী কেলেঙ্কারি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রির অভিযোগে কাটগড়ায় বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ হাসনাত টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল হোসাইনের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের ফোর্স মোবিলাইজেশন ড্রিল অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে শিশুকে জোড় পূর্বক ধর্ষণ"এলাকাবাসী হাতে ধর্ষক আটক। রাণীশংকৈলে বীজ-সার বিতরণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের পাশে সরকার। ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
ঢাকার বার্তা
প্রকাশ : Mar 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বিদায়ী ভাষণ সাম্য ও মানবতার চিরন্তন ঘোষণা

মোঃ শাহজাহান বাশার

ইতিহাসের ধারায় এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যা কেবল একটি জাতি বা একটি সম্প্রদায়ের জন্য নয় বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য দিকনির্দেশনা হয়ে ওঠে। সপ্তম শতাব্দীর আরব ভূখণ্ডে উচ্চারিত এক ভাষণ আজও মানবসভ্যতার জন্য প্রাসঙ্গিক, ন্যায়বোধের জন্য অনিবার্য এবং সাম্যের দর্শনের এক চিরন্তন দলিল। সেই ভাষণ হলো মহানবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিদায়ী ভাষণ, যা ইতিহাসে ‘খুতবাতুল বিদা’ নামে পরিচিত।

আরাফাতের ময়দানে লক্ষাধিক সাহাবীর সামনে দাঁড়িয়ে তিনি যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা ছিল মানবাধিকারের এক অনন্য সংবিধান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন—

“কোনো আরবের ওপর অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোনো অনারবের ওপর আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই; কোনো সাদার ওপর কালোর শ্রেষ্ঠত্ব নেই, কোনো কালোর ওপর সাদার শ্রেষ্ঠত্ব নেই—শুধু তাকওয়া (নৈতিকতা ও সৎকর্ম) ছাড়া।”

এই ঘোষণার মধ্যে নিহিত রয়েছে মানবসমতার চূড়ান্ত বার্তা। জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা কিংবা ভূগোল—এসব বাহ্যিক পরিচয় মানুষের মর্যাদার মাপকাঠি হতে পারে না। একজন মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হবে তার নৈতিকতা, সততা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার ভিত্তিতে।

এই ভাষণ কেবল ধর্মীয় উপদেশ ছিল না; এটি ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা। বিদায়ী ভাষণে মহানবী (সা.) মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের নিরাপত্তাকে পবিত্র ঘোষণা করেন। তিনি সুদের প্রথা বিলোপের ঘোষণা দেন, নারীদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানান এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন।

এই শিক্ষাগুলো আজকের বিশ্বে কতটা প্রাসঙ্গিক—তা ভাবলেই বিস্ময় জাগে। একবিংশ শতাব্দীতেও বিশ্বে বর্ণবাদ, জাতিগত বৈষম্য, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সামাজিক বিভাজন বিদ্যমান। কোথাও গায়ের রঙের কারণে মানুষ বৈষম্যের শিকার, কোথাও জন্মগত পরিচয়ের কারণে সুযোগ থেকে বঞ্চিত। অথচ প্রায় চৌদ্দশ বছর আগে আরাফাতের ময়দান থেকেই উচ্চারিত হয়েছিল সাম্যের এমন ঘোষণা, যা আধুনিক মানবাধিকার ঘোষণারও বহু পূর্ববর্তী।

এই ভাষণের মূল বার্তা হলো—মানুষ মানুষকে শ্রদ্ধা করবে মানুষ হিসেবে। কারও ওপর কারও জন্মগত আধিপত্য নেই। কোনো জাতি অন্য জাতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টিতে সবাই সমান, পার্থক্য কেবল নৈতিকতার মানদণ্ডে।

এই শিক্ষা শুধু মুসলমানদের জন্য নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি নৈতিক আহ্বান। এটি ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে মানবতার সার্বজনীন নীতিতে পরিণত হয়েছে। একজন খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা নাস্তিক—যেই হোন না কেন, সাম্যের এই দর্শন তার জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। কারণ এটি মানবমর্যাদার প্রশ্ন।

আজকের সমাজে আমরা প্রায়ই বিভক্ত—রাজনীতি, মতাদর্শ, ভাষা, অঞ্চল কিংবা দলীয় পরিচয়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ায় দ্রুত, সহনশীলতা কমে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমন সময়ে বিদায়ী ভাষণের শিক্ষা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।

যদি আমরা সত্যিই বিশ্বাস করি যে কারও ওপর কারও কোনো বর্ণগত বা জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তবে আমাদের আচরণেও সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। পরিবারে, সমাজে, রাজনীতিতে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায়—সবখানে ন্যায়, সাম্য ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশ্ন হলো—আমরা কি সেই আদর্শ অনুসরণ করছি? আমরা কি সত্যিই বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে আন্তরিক? নাকি কেবল মুখে সাম্যের কথা বলি, আর বাস্তবে বিভাজনের চর্চা করি?

বিদায়ী ভাষণ কেবল একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি নয়; এটি একটি চলমান দায়বদ্ধতা। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মানুষের প্রকৃত উচ্চতা তার বংশে নয়, সম্পদে নয়, ক্ষমতায় নয়; বরং তার চরিত্রে।

যদি মানবসভ্যতা সত্যিকার অর্থে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তবে তাকে ফিরে তাকাতে হবে সেই আরাফাতের ময়দানের দিকে—যেখানে উচ্চারিত হয়েছিল মানবতার এক সর্বজনীন ঘোষণা।

আমরা যদি সেই শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করতে পারি, তবে সমাজে হিংসা কমবে, বৈষম্য দূর হবে এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে নতুন উচ্চতায়।

সাম্য, ন্যায় ও ভ্রাতৃত্ব—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠতে পারে একটি সত্যিকার মানবিক সমাজ। বিদায়ী ভাষণের সেই আহ্বান আজও আমাদের সামনে উন্মুক্ত—আমরা কি তা গ্রহণ করব?  লেখক মোঃ শাহজাহান বাশার ,সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁও আলু চাষিদের মানববন্ধন।

1

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আপসহীন আন্দোলনের বিকল্প নেই- মো. শাহজাহ

2

তেলের লাইনে শত শত মানুষ: যশোরে জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তি

3

জাতীয় ফল মেলা ২০২৬ উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ

4

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

5

আশরাফুল ইসলাম তালুকদার সোহাগ ভরপাশা ইউনিয়নের জন্য উন্নয়নমু

6

ঢাবিতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নেতা সালেহ মোঃ আদনান-এর উদ্যোগে ইফত

7

বাড়ি নির্মাণে বাধা ও কোটি টাকার চাঁদা দাবি: ব্রাহ্মণপাড়ায় সা

8

সিংড়ায় জিয়া পরিষদের উদ্যোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্ব

9

পাথরকুচি পাতা: প্রাচীন ভেষজ চিকিৎসার বহুমাত্রিক ব্যবহার

10

রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ প

11

চৌদ্দগ্রামে গৃহবধূ ফাতেমা হত্যার বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর ম

12

বাকেরগঞ্জ পৌরবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে স্বপ্নের হাতছানি দিচ্ছেন হ

13

কুমিল্লায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদ

14

রঙ্গশ্রী ইউনিয়নবাসীকে মিজান মোল্লার ঈদের শুভেচ্ছা

15

কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ হাজার ইয়াবা উদ্

16

বাকেরগঞ্জ উপজেলা বাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বী

17

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

18

ভাত ছাড়াই ১৩ বছর, সিংড়ার স্কুলছাত্র পারভেজের ব্যতিক্রমী জীবন

19

খাগড়াছড়িতে ৫০টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে পৌঁছালেন প্রিজাইডিং কর্ম

20