মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
প্রবল বৃষ্টির কারণে রাজধানী ঢাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সকাল থেকেই শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে একদিকে যেমন কিছুটা স্বস্তি এসেছে তাপদাহ থেকে, অন্যদিকে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন অফিসগামী কর্মজীবী, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষ। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় অনেকেই ছাতা ছাড়াই ঘর থেকে বের হয়ে পড়েন এবং আশ্রয়ের খোঁজে দোকান বা ভবনের নিচে আশ্রয় নেন। যারা ছাতা নিয়ে বের হয়েছিলেন তারাও পুরোপুরি ভিজে যান, বিশেষ করে রাস্তার জলাবদ্ধতায় জুতা ও পোশাক নষ্ট হয়ে যায় অনেকের।
মতিঝিল এলাকায় দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যে বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীরা ভিজে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। একই চিত্র দেখা গেছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও। অনেকেই বৃষ্টির মধ্যে ভিজেই বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে বাধ্য হন।
রামপুরা এলাকায় আলিফ পরিবহনের যাত্রী ইমরান হোসেন জানান, সকালে আকাশ হঠাৎ এতটাই কালো হয়ে যায় যে মনে হচ্ছিল সন্ধ্যা নেমে এসেছে। দ্রুত বৃষ্টি শুরু হওয়ায় যাত্রাপথে বিপাকে পড়তে হয় তাকে।
এদিকে বাংলামোটর এলাকায় অফিসগামী কর্মজীবী নারী মাহফুজা রহমান বলেন, সকালে দীর্ঘ সময় রিকশার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন তিনি।
আরেক কর্মজীবী নারী জানান, ছাতা থাকা সত্ত্বেও প্রবল বৃষ্টিতে পুরোপুরি ভেজা থেকে রক্ষা পাননি। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা স্বস্তি এসেছে প্রচণ্ড গরম থেকে—এটাও উল্লেখ করেন তিনি।
টানা বৃষ্টির ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে কারওয়ান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে তীব্র যানজট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে অফিসগামী মানুষ সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। অনেককেই দীর্ঘ সময় ধরে বাস ও রিকশার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দেশের ১৭টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন